আমার সিলেট
জাতীয়
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

৩০ আসনে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগ জানিয়ে ভোট পুনঃগণনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করবে ১১ দলীয় ঐক্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
১১
৩০ আসনে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগ জানিয়ে ভোট পুনঃগণনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করবে ১১ দলীয় ঐক্য

আজ শনিবার ১৪ ফেব্রয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফলাফল জালিয়াতি, কারচুপি ও রেজাল্ট শিটে ঘষা-মাজা করে ফলাফল পরিবর্তনের বিষয়ে ব্রিফিং করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মুয়াযযাম হোসেন হেলাল, ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রোটারি ড. আব্দুল মান্নান, পাবনা-১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক ওলি উল্লাহ নোমান।

ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জায়গায় হামলায় আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আশা করছি তারা তড়িৎ পদক্ষেপ নেবেন।

তিনি বলেন, সদ্য সমাপ্ত হওয়া নির্বাচনে অনেক ক্ষেত্রে কারচুপি, জালিয়াতি, ভোট প্রদানে বাধা, এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, ৩০টি আসনে ভোট জালিয়াতি, কারচুপি, রেজাল্ট শিটে ওভার রাইটিং ও ঘষামাজা হয়েছে- আমরা এসমস্ত বিষয়গুলো নির্বাচনের দিনেও তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছিলাম। কিছু কিছু আসনে ফলাফল প্রকাশে অনেক দেরি হয়েছিল আবার কোনো কোনো আসনে বিদ্যুৎ গতিতে দেয়া হয়েছে। এভাবে অনেক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ হয়েছে। যেসমস্ত আসনে এ ধরনের নির্বাচনী অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং নির্বাচনী আচরণবিধি মানা হয়নি সেই আসনগুলোর ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ভোট পুনঃগণনার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান আমরা জানিয়েছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আমরা জানাবো এবং সম্ভাব্য সবধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

নির্বাচনী সহিংসতায় কয়েকজন আহত ও নিহতসহ বেশ কিছু হামলার তথ্য তুলে ধরে এডভোকেট জুবায়ের বলেন, সংখ্যাগরিষ্ট আসনে জয় পাওয়া দলটি তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা নতুন বাংলাদেশ সহিংসতামুক্ত দেখতে চাই- যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে কিন্তু কোনো ধরনের সহিংসতা থাকবে না।

এসময় যে ৩০ আসনে ভোট পুনঃগণনার জন্য আবেদন করা হয়েছে তা তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসেন হেলাল। তিনি বলেন, এসব আসনে ভোট পুনঃগণনা করলে সত্য প্রকাশিত হবে এবং যাদের পরাজিত করা হয়েছে তারা বিজয়ী হয়ে আসবেন।

পরে ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান তার নির্বাচনী আসনের কয়েকটি কেন্দ্রের ফলাফল জালিয়াতির তথ্য তুলে ধরেন। তার তুলে ধরা তথ্যের মধ্যে রয়েছে- ফলাফল শিটে এজেন্টদের নামের গরমিল(যে নামের এজেন্ট দেখানো হয়েছে তা তিনি দেননি), এজেন্টদের এনআইডি না থাকা, ওভার রাইটিং, ফলাফল শিটে কার্বন কপি করে লেখা, পেন্সিল দিয়ে লেখা, পোলিং এজেন্টের নাম না থাকা, ফটোকপির ফলাফল শিট ব্যবহার ও কলম দিয়ে কেন্দ্রের নাম লেখা- যেখানে প্রিন্ট লেখা থাকে সাধারণত। এসময় ড. মান্নান রেজাল্ট শিটের মূলকপি সাংবাদিকদের উচিয়ে দেখান।

ড. মান্নান বলেন, আমরা গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ৫৮ মিনিটে ফলাফল স্থগিত রাখতে আবেদন করেছিলা। তা আমলে না নিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচন কমিশনের অফিস প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইশরাকের ভবনে ছিল তা সরানোর জন্য গত ১৪ জানুয়ারি আবেদনও আমরা করেছিলাম- তা করা হয়নি।

ভোট পুনঃগণনার জন্য আবেদন করা আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০ , ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫,বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-৩, , গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪, কক্সবাজার-৪।

এসব আসনের মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মতামত (0)