সিলেটে সাবেক মেম্বারকে কুপিয়ে হত্যা: মৌলভীবাজার থেকে দুই ভাই আটক

ছবি : এসএমপি
সিলেটের ওসমানীনগরে সাবেক ইউপি সদস্য আতিক মিয়া হত্যা মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সম্পর্কে তারা আপন দুই ভাই।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে র্যাব-৯ সদর কোম্পানি ও সিপিসি-২ শ্রীমঙ্গলের যৌথ অভিযানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—ওসমানীনগরের পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের আতর মিয়ার ছেলে মঞ্জু মিয়া (৩৩) ও মিজান মিয়া (২৮)। রোববার সকালে র্যাবের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ও ঘটনা
র্যাব জানায়, ভিকটিম আতিক মিয়া ছিলেন ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ও এলাকার পরিচিত সালিশি ব্যক্তিত্ব। আতিক মিয়ার ভাই সৈয়দ আব্দুর রশিদ আখলিছ মিয়ার বসতভিটার জায়গা নিয়ে ১নং বিবাদী সৈয়দ আব্দুল ওয়াহাবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বিবাদী পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আতিক মিয়ার ভাইয়ের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য আতিক মিয়া একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন এবং বিবাদীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
ওইদিন বিকেলে সালিশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে, ২নং বিবাদী আতর মিয়ার বাড়ির পাশের রাস্তায় আতিক মিয়ার ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে দা ও কাঠের বর্গা দিয়ে কপাল, মাথা ও বুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাবের অভিযান
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে শ্রীমঙ্গল থানার সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের খোয়াজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম দুই আসামি মঞ্জু ও মিজানকে আটক করে র্যাব।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটককৃতদের সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৯।
