গুলির আদেশদাতার তথ্য না পেয়ে সিলেটের ডিসিকে শোকজ

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে কে গুলি করার আদেশ দিয়েছিলেন, সে তথ্য না পাওয়ায় জেলা প্রশাসককে (ডিসি) কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন আদালত। ৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটের আমলি আদালত নম্বর-২–এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার এ আদেশ দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
আদালতের নোটিশে বলা হয়, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সরবরাহ না করায় মামলার তদন্তকাজ বিলম্বিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট মামলা দায়ের হলেও এখনো তদন্ত শেষ হয়নি, ফলে বিচারকাজও শুরু করা যাচ্ছে না। আদালতের আদেশ অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং তা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ধারাবহর এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তাজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী রুলী বেগম। এ ঘটনায় তিনি গোলাপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের পরিদর্শক নূর মোহাম্মদকে। গত বছরের ২২ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেটের জেলা প্রশাসক ও বিজিবির শ্রীমঙ্গলের সেক্টর সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালকের কাছে পৃথকভাবে আবেদন পাঠান। জেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সেদিন কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুলি করার আদেশ দিয়েছিলেন। আর বিজিবির কাছে জানতে চাওয়া হয়, ঘটনাস্থলে সেদিন কোন কোন সদস্য দায়িত্বে ছিলেন।
পরে গত বছরের ১৫ জুন আদালত জেলা প্রশাসক ও বিজিবির উপমহাপরিচালককে ১৫ দিনের মধ্যে চাহিত তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পর বিজিবি তথ্য প্রদান করলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা সরবরাহ করা হয়নি। জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে গোলাপগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি)–কে তথ্য প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একাধিকবার আদালত তথ্য চাইলেও তা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, “আমি নোটিশটি পাইনি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
